বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনায় তিনদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানমালা ও লোকজ মেলার সামপনী করা হয়েছে। শনিবার(১০ মে) বিকেলে ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এবং রূপসার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় সামপনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল। তিনি বলেন, মানব সম্পর্কিত সমস্ত কল্যাণকর ভাবনা ও প্রজ্ঞার সবকিছুই মানবতার সঙ্গে জড়িত। এমনকি আমাদের এই পৃথিবী, সমাজ, রাষ্ট্র এসব কিছুর কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি পরোক্ষভাবে মানবতার সাথে সম্পৃক্ত। রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম এবং সাহিত্য সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ। তিনি ঠাকুর পরিবারের জমিদার ভাবনার মধ্যে বড় হলেও সমাজের নির্যাতিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বমানবতার কবি। তাই তো তিনি অসহায় কৃষকদের ঋণের কবলে পড়ে যাতে সর্বশান্ত হতে না হয় সে জন্য কৃষকদের নিয়ে সমবায় ব্যাংক স্থাপন করেন। তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষের সন্তানদের জন্য লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ্যাতির শীর্ষে থেকে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া সমস্ত অর্থই সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় করেন। আমরা যদি রবীন্দ্রনাথের আদর্শকে ধারণ করতে পারি তাহলে আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজনটি স্বার্থক হবে।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকাশ কুমার কুন্ডু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী। ‘রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা’ বিষয়ে মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মৌমিতা রায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এদিকে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন ফুলতলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনীম জাহান। ‘রবীন্দ্রনাথ ও মানবতা’ বিষয়ে মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ সালেকীন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যকর্ম, সংগীত, দর্শন এবং জীবনদর্শনের মধ্য দিয়ে মানবতাবাদী ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছেন। রবীন্দ্রনাথের মানবতা শুধু তাত্ত্বিক নয়, ছিল গভীরভাবে ব্যবহারিক ও প্রাণবন্ত। তাঁর মতে ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’। এই বিশ্বাসই তাঁকে বিশ্বসাহিত্যে ও মানবতাবাদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী স্থান দিয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
খুলনা গেজেট/এএজে